বাসনা
আমায় নিয়ে একটা কবিতা লিখে দেবে।
কত বার বলেছি তোমায়।
না হয় কিছু লাইন বা শব্দ বা অক্ষর।
তুমি তাকিয়ে থাকতে আমার দিকে।
আমি জানি তুমি কেবলি তাকিয়ে আছ।
তোমার দৃষ্টি,তোমার ভাবনা তোমার চেতনা তোমার সত্তা তখন আমার গন্ডির বাইরে।
আমার গন্ডিবা কত টুকু।খুবি অল্প,সীমানার প্রাচিরে বাঁধা।ভাড়া করা প্রেমিকা কিনা আমি।
তুমি তাকিয়ে থাকতে আমার দিকে।
কিন্তু আমি বুঝতাম তুমি কিছু না কিছু ভাবছো।
তোমার চোখে ভাঙাচোড়া নড়বড়ে কিছু প্রেম মাঝে মাঝে জেগে উঠেই মিলিয়ে যেত।
তোমার ঠোটের কোনে ম্লান কিন্তু কি অদ্ভুত মিষ্টি ঠোট চাঁপা হাঁসি ঝুলে থাকতো সে সময়।
কি যে ভালো লাগতো তোমায় তখন।
তুমি কবি মানুষ।তোমার ভাবতে প্রেমে লাগে।তুমিই তো বলেছিলে প্রেম করলে নাকি শরীরের হরমনিক ক্রিয়া বদলে যায়।তাতে ভাবার সুবিধে হয়।তোমার তো প্রিয় কাজ একটাই ভাবা।
প্রথম প্রথম তুমি আমার প্রেমের ভাড়া সময় মত মিটিয়ে দিতে।
আমিও নিতাম সে বিপুল আঙ্কের ভাড়া হাত পেতে।
অভাবি বাড়ির মেয়ে কিনা।
জানোতো প্রয়োজনের কাছে সব হারিয়ে যায়।
প্রেম,ভালোবাসা,আত্মসন্মান,বিবেক বুদ্ধি সর্বপরি বুকের মাঝে জমিয়ে রাখা চোরা অভিমান গুলো।
নদির অদম্য স্রোতে বিনিত হাতে আত্মসমর্পন করে দিতে হয় সব কিছুকে।
প্রথম প্রথম নিতাম সেই প্রেমের ভাড়া।
সমস্যা হল কিছু সময় পর।
কেমন যেন লাগতো।
কেমন যেন আড়ষ্টতা অথবা চাপা অভিমান জন্মাতো বুকের ভেতরে।অনেক গভিরে।
কতবার বলতে চেয়েছি এই ভাড়া আমার দিয়ে আর অপমান কোরোনা তুমি।
আমি তোমার প্রেমে পড়েছি।কেবল সেই প্রেমের একটু যত্ন নিও।
বলতে চেয়েও পারিনি।
কারন তোমার সেই মুখ ভরা চাপা হাঁসি।
কিছু না কিছু তো আছে তোমার ভেতরে।
যা এমন প্রখর,এমনি উদ্দিপিত, এমনি ধারালো যে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে সমস্ত কিছুকে।
বলতে চাওয়া কথা গুলো পেঁজা তুলোর মত ফ্যাকাসে হয়ে উড়ে যায় আবেগি বাতাসে।
সব কিছুকে আড়াল করে অনাড়ম্বর ভাষাতে একদিন কেবল একবারি চেয়ে ছিলাম আমায় নিয়ে একটা কবিতা লেখাতে।
তুমি মাথা হাত দিয়ে সস্নেহে বলেছিলে।
আমি তো কষ্টের কবিতা লিখি।তুমি তো আমার সুখ।আমার শান্তি আমার তৃপ্তি।আমি কিভাবে সুখ দিয়ে দুক্ষকে সৃষ্টি কিরবো।
চেষ্টা করলে হয়তো পারতে।কিন্তু চেষ্টার জন্যে সময় লাগে। তাই ছিলোনা তোমার কাছে।
আমি সবি জানতাম,সবি বুঝতাম। কিন্তু ইচ্ছে এমন এক যন্ত্রনা যাকে যুক্তি দিয়ে মুক্ত করা যায় না।
চিন চিনে ব্যাথা রুপে বুকে, মনে, শরীরের শিরা উপশিরায়, চামড়ার ফাঁকে ফাঁকে তার প্রয়োজনের জানান দিয়ে যায়।
আমি তো তোমারই হতে চাই এখন।তোমার কবিতার মত।তোমার কষ্ট,যন্ত্রনা আবেগেরই মত।আমি তোমার হতে চাই শুধু।
তুমি লিখবে আমায় নিয়ে কবিতা।আজ না হোক বা পরশু।তুমি লিখবেই আমায় নিয়ে কিছু।তোমাকে দিয়ে লেখাবো আমি।আমার প্রেমে কি কম আছো তুমি।তুমি কে ঘিরেই তো এ প্রেমের স্রোত বয়ে বেড়ায়।
প্রথম তোমায় দেখে কি না কি ভেবেছিলাম আমি।মনে আছে।।আমার কলেজের বাইরে কুত কুতে চোখে মেয়েদের দেখছিলে তুমি।যেন মাপছো তাদের, বুঝছো তাদের,তাদের সব কিছু জানাটাই যেন তোমার প্রয়োজন।হাতের সিগারেটটা মাঝে মাঝে মুখের টানে উজ্বল হচ্ছিল।সাদা রঙের ঢলা পাঞ্জাবী পড়েছিল।বুক পকেটে মুখ খুলে যাওয়া পেনের নীল কালি চাপ মেরে জেগে উঠেছিল।আমায় প্রথম দেখে কেমন ভাবে হাসলে যেন।আমি ভয় পেলাম।
অভাবী বাড়ির মেয়ে কিনা।।অভাবের মতই নিত্য সঙ্গি হয় ভয়ের।
প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন,তৃতিয়া দিন।একি ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে তুমি।যেন মাছ রাঙাপাখি মাছের শিকারে ধিরস্থির ভাবে অপেক্ষা রত।আমি অবাক হতাম।তোমাকে অসাধারন ভাবে সাধারন লাগছিল।তোমার ব্যাক্ততিত্বের সঙ্গে বাস্তবের মিল খাচ্ছিলনা কোনো মতেই।আমি ছাইকি জানতাম তখন তুমি আসলে কে।তোমাকে নাই জানলে ভালো হত হয়তো।।ভুল তো আমিই করেছি।।লোভ হয়েছিল জানোতো।প্রচন্ড লোভ।তোমাকে চিনতে চাওয়ার লোভ।তোমাকে নিজের করে পেতে চাওয়ার লোভ।তোমার কবিতায় চিরদিন আটকে থাকার লোভ।
চতুর্থদিন আমার ডাকলে তুমি। কি গম্ভীর গলা তোমার
"এই মেয়ে এদিকে শুনে যাও"
হাঁটতে হাঁটতে থমকে গেছিলাম।কলেজ তখন শেষ কিন্তু আমার সংগ্রাম তখন শুরু।কলেজ শেষে part time job এ যেতে হবে যে।কিছুটা সংকোচ,কিছু পরিমান দোনামনা হয়ে ভাটার স্রোতে ধীর পায়ে গেলাম তোমার কাছে।
তুমি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাঁসলে।তার পর নিজের চুলে হাত বুলিয়ে বললে- এই মেয়ে,প্রেম করবে কি আমার সঙ্গে? ভালো টাকা দেব।
আমি চমকে উঠলাম।বলেকি! আমায় কি দেখে সেরকম ধরনের মেয়ে মানুষ বলে মনে হয় নাকি রে বাবা।কিছু বলতে গেছিলাম। অবশ্যই কড়া ধরনের কিছু কথা।তুমি বলতে দিলে না।তার আগেই বুক পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে আমার হাতে দিলে।বল্লে- রাজি থাকলে যোগাযোগ কোরো।তারপর পেছন ঘুরে হাঁটতে হাঁটতে মিলিয়ে গেলে কোথাও।আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।ঘটনার আকস্মিকতা সামলে উঠতে সময় লেগে ছিল সামান্য।কার্ডটা ফেলে দিতে যাচ্ছিলাম।কিন্তু একটা নাম দেখে চমকে উঠলাম।কে তুমি! তুমিই কি সেই।যার একবার দেখা পাওয়ার জন্যে মানুষ পাগল হয়ে থাকে।যার একটা লেখা পেতে প্রকাশকরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে।।সে নিজে এসে দেখা দিল আমায়।জানোতো আমার বাংলা hon এ তোমার লেখা পড়তে হয়।বিশ্লেষন করতে তোমার ভাবনা চিন্তা কে।আজ সেই তুমি এসে দাঁড়ালে আমার সমনে।বুঝতে পারছিলাম না।আমার আনন্দ হচ্ছে না শিহরন।
জানোতো, অভাবি বাড়ির মেয়েদের সব সময় সতর্কভাবে চলতে হয়।তাদের কপাল খুলে যাওয়ার সৌভাগ্যটা সমাজের কাছে নতুন রকমের কৌতুকের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।তুমি যেচে এসেছো আমার সঙ্গে দেখা করতে একে সৌভাগ্যের নাম না দিয়ে অন্য কিছু একটা নামে ডাকা যেত।কিন্তু এই প্রাপ্তিকে কোনো নাম দিয়েই ডেকে ছোটো করতে ইচ্ছে করছিলনা আমার।কারন সব নামেই কিছু না কিছু খুঁত থাকে।প্রথমে ভাবলাম যোগাযোগ করবো।কিন্তু যে প্রস্তাব পেয়েছি তা কেমন যেন,শরীর ঘিনিয়ে আসে।
যে দুজন বান্ধবী আছে।তাদের বললাম।তারা প্রথমে চমকালো।তারপর অবিশ্বাস করলো।তারপর জোর করেই যেন বিশ্বাস করলো।পিউটা বড় ফাজিল জানোতো।সে বলল- যা না। কিবলে দেখ।বুড়ো মানুষ,প্রেমের শখ হয়েছে।গিয়ে দেখইনা কি বলতে চায়।ভাবছিস কেন।ব্যাগে লঙ্কা গুঁড়ো নিয়ে যাবি।একটু এদিক ওদিক বুঝলেই চোখে ঢেলে দিবি।অত ভয় পাওয়ার কি আছে।সেরকম হলে আমরাও যাব না হয়।তোমাকে দেখার লোভ সামলাতে পারেনি পিউও পর্যন্ত।আমি তো মেয়ে নাকি। মেয়েদের মনের চোরা কুঠিরে জমে থাকা অন্ধকার হিংসে গুলো বুঝতে পারি।
তোমায় ফোন করলাম।তুমি এমন ভাবে চিনে নিলে আমায় যেন কয়েক যুগ ধরে আমরা পরিচিত।আবশেষে দুই বান্ধবী মিলে গেলাম, গেলাম তোমার দেওয়া ঠিকানায়।গাছপালা,জঙ্গল দিয়ে মুড়ে দিয়েছো তোমার আশ্রয়কে।কেমন যেন অদ্ভুত মন খারাপ করা ভালোলাগা জন্মেগেল ।তুমি নিজেই এসে আমাদের আপ্যায়ন করলে।জানোতো কত কি ভেবে গেছিলাম।ভেবেছিলাম চাকর বাকর প্রহরি দিয়ে ঘিরে থাকবে তুমি।কিন্তু না।তুমি একা।কেবলি একা।
জানোতো মেয়েদের মধ্যে মা মা একটা ব্যাপার প্রথম থেকেই থেকে যায়।যেকোনো ছেলের অসহয়তা দেখলে সেই জায়গাটা মৃদুভাবে উদ্দিপিত হয়ে ওঠে।বিশ্বাস কর।এখানে এসে তোমায় দেখে কেমন যেন মাতৃসুলোভ স্নেহ জেগে উঠেছিল আমার।
কি সুন্দর,নরম, স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছিলে তুমি।নিজের হাতে চাও খাওয়ালে।হতো আমার জীবনের শেরা চা সেটা।তবে চাপাতার বদলে যে কালো জিরে দিয়েছিলে।তুমি হতো জানোনা।আমিও বলিনি তোমায় কোনো দিনও।
আমায় কি করতে হবে? এপ্রশ্নের উত্তরে তুমি তাকালে আমার দিকে।আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম।তোমায় যেটুকু এই মুহুর্ত পর্যন্ত চিনেছি।এই চোখ তার চেয়ে অন্য।মুহুর্তের মধ্যেই যেন পালটে ফেললে নিজেকে।'ম্লান কিন্তু আবেগী গলায় বললে " আমার সঙ্গে প্রেম করতে হবে।"
আমি বল্লাম- এভাবে কি প্রেম করা যায় নাকি।প্রেম জন্যে তো আমাকেও প্রস্তুত হতে হবে।আপনাকে ভালো লাগতে হবে।
আমার উত্তরে যেন খুশিই হলে তুমি।সেই মুখ চাপা হাঁশি।উত্তরে বললে-অত সময় কি আছে আমার কাছে।নতুন একটা লেখা লিখছি।ভালোই হচ্ছে লেখাটা।কিন্তু শান্তি আসছে না।শব্দ হতো সাজিয়ে যাচ্ছি।কিন্তু যে যন্ত্রনাটা ধরতে চাইছি পারছি না।বুকের কষ্ট গুলো বুকেই চেপে থাকছে।কলমে ডগায় তাকে এনে ফেলতে পারছিনা।
আমি স্পষ্ট দেখেছি।তোমার চোখের কোনে অসহয়তার যন্ত্রনা,ব্যার্থতার বেদনা, হতাশার চোখের জল চিক চিক করছে।আমার কেমন যেন কষ্ট হল।আমি বল্লাম- আমায় করতে হবে কি? স্পষ্ট করে বললে আমার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধে হবে।
তুমি বল্লে- কিছুই না।যখন আমি লিখতে বসবো আমার সামনে বসতে হবে,আমি দিকে নিগুড় প্রেমে তাকাতে হবে।লিখতে লিখতে আমার কিছু expression প্রয়োজন হতে পারে।তুমি দেবে।মূল কথা আমার লেখায় তোমার প্রতিচ্ছবি থাকবে।সঙ্গে প্রেম।তোমার জন্যে একটা গাড়ি বরাদ্দ থাকবে।যখনই ডাকবো চলে আস্তে হবে।
আমি খানিক চিন্তিত হয়েছিলাম।তুমি হয়তো বুঝে নিয়ে ছিলে।আমার দিকে খানিক তাকিয়ে বল্লে- এই মেয়ে এত চিন্তা কিসের?
উত্তরটা দিতে গিয়ে কেমন আড়ষ্টতা যেন চেপে ধরে ছিল আমায়।আমার হয়ে পিউই বল্ল- না মানে একা একটা মেয়ে। মানে বুঝতেই পারছেন।safety র একটা প্রশ্ন থেকেই তো যায়।
তুমি যেন কেমন অস্থির হয়ে পড়লে।যেন বোকা বোকা কথা শুনছো এমন ভাব জেগে উঠলো তোমার ভ্রুরুর মাঝে।মাথার চুলে হাত বুলিয়ে আশ্বস্ত করার মত বললে- এই জঙ্গলে বাঘ ভাল্লুক নেই,সাপ হয়তো আছে।কিন্তু এদিকে আসেনা তারা।আর চোর ডাকাত এবাড়ির দিকে তাকায় না।কি আছে যে চুরি করবে তারা।আর এই মেয়েতো একা থাকবেনা।আমি সঙ্গে থাকবো।একটা গাড়ি দিয়ে দেব। নিয়ে যাবে নিয়ে আসবে।
তুমি হয়তো পিউর ইঙ্গিত ধরতে পারোনি।এত বোকা তুমি ভেবেই হাসি পাচ্ছিল।আসল ভয়টা যে তোমাকে নিয়ে সেটাই তুমি বুঝলে না।সাপ ডাকাতদের নিয়েই মেতে উঠলে ।পিউ আরো কিছু বলতে চাইছিল।আমি তাকে থামিয়ে বলে উঠলাম- আমি রাজি।
যে মানুষ নোংরা ইঙ্গিত ধরতে পারেনা।সে মানুষ নোংরামি করতেও পারেনা।কিছুটা যেন বুঝলাম তোমায় সেদিন।তোমার মন মাতয়ারা সৃষ্টি নিয়ে।সেই মন কুয়াশা ধারার মত অস্পষ্ট কিন্তু পবিত্র।ঠিক ভুল,বাস্তব, সমাজের বানানো জটিল হিসেবের বাইরে সে মন একাই, স্বনিয়ন্ত্রিত।ভালো লাগলো বুঝলে বেশ ভালো লেগেছিল তোমায় সেদিন।আসলে আমরা সাধারন মানুষরা সাধারন বিষয়ের বাইরেই যেতে পারিনা।তাই তোমার মত অসাধারন মানুষ গুলোকে কেমন বুঝতে পারিনা।কিন্তু ভালোলেগে যায়।
আমি রাজি শুনে বাচ্চাদের মত হেঁসে উঠলে তুমি।যেন কোনো অসাধ্য সাধিত হল আমার উত্তরে।যেন কোনো জলপ্রপাত থমকে ছিল, এবার শুরু হবে তার বয়ে চলা।
প্রেমের ভাড়া বাবদ যে অঙ্কটা শোনালে তুমি আমি আরেকটু হলে পড়ে যেতাম।তোমার মুখ ভর্তি তখনও সেই উজ্বল,চকচকে হাঁসির ধারায়।এই প্রথম আমি হাঁসলাম।জানিনা কেন ভয় লাগছিলনা তোমাকে।বরং ভালো লাগছিল।
কবে থেকে আসতে হবে জানাতে চাইতেই তুমি বল্লে- এক্ষুনিই শুরু করে দিতে পারি।জানোতো আমার লেখা আটকে আছে।
উজ্বল মুখটা ঝুপ করে নিভে গেল যেন।কি একটা জটিল কষ্ট ফুটে উঠেছে তাতে।লেখা আটকে থাকাটা যেন দুনিয়ার সেরা সেরা কষ্টের মধ্যে একটা।আমি বল্লাম- আজ তো হবেনা।আমার অন্য একটু কাজ আছে।আমায় যেতে হবে।
কি করুন ভাবে তাকালে আমার দিকে।আমি বুঝতে পারছিলাম তুমি মানষিক কষ্টে আছ।তোমার চিন্তা জট পাকিয়ে আছে।আমায় সেই জট খুলতে হবে।কেমন ফ্যাকাশে গলায় যেন বল্লে- চলে যাবে?
কি নিদারুন অবসাদ ছিল যেন তাতে।আমি প্রেম ভরে তাকালাম তোমার দিকে।প্রেম, না স্নেহ।আমি জানিনা।তবে এটুকু জানি বা বুঝতে পারি।ইচ্ছে করে নয় অজান্তেই যেন প্রেম ছিটকে এসেছিল।আমার চোখ থেকে।
পিউকে বাড়ি পাঠালাম।আমি থেকে গেলাম তোমার সূক্ষ সূক্ষ অনুভুতি দিয়ে মাখানো তোমার জগতে।হয়তো ভাগ্যবান আমি,এমন এক সুযোগ যেচে এসে দাঁড়িয়েছে আমার সামনে।আজ থেকে অনেক অনেক দিন পরে যখন তোমার লেখা কেউ পড়বে।অদৃশ্য ভাবে তাতে আমি থেকে যাব।তোমারই মত অমর অক্ষয় হয়ে থেকে যাবে আমার পরিচয় নিরবে,সবার আড়ালে।
তোমার সঙ্গে গেলাম তোমার লেখা ঘরে।কি অদ্ভুত।কিছুই নেই তাতে।একজোড়া চেয়ার আর একটা টেবিল ছাড়া।মোমবাতির আলোতে অন্ধকাররের স্রোত যেন বয়ে বাড়াতে লাগলো সে ঘরের এদিকে হতে ওদিক ময়।ঘর ময় বুনো একটা স্যাতস্যাতে গন্ধ।চারিদিকে এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে অজস্র বই।টেবিলে একটা খাতা আর কয়েকটা ভাঙা কলম।আমি গিয়ে বসলাম চেয়ারে।জানিনা কেন বুঝতে পেরেগেছিলাম কোথায় বসতে হবে আমায়।তুমি বসলে আমার সামনে।এ পেন সে পেন নিয়ে লেখা শুরু করতে গেলে।কিন্তু কালি নেই তাতে।কোনোটা অকেজো।আমি পেন দিলাম আমারটা।তুমি লেখা শুরু করলে।মোমবাতির আলোতে তোমার কপাল যেন অদ্ভুত ভাবে উজ্বল হচ্ছিল।আলো আধারির খেলাতে তোমায় অপরিচিত লাগছিলো।তুমি তন্ময় হয়ে লিখে যাচ্ছিলে।আমার দিকে তাকাওনি এক বারের জন্যেও।তুমি যেন হারিয়ে গেছ।আমি যে আছি তাও জানোনা।আমি নিস্পলক চোখে তোমায় দেখছি।তোমার মত মানুষদের সচারচর দেখা মেলেনা কিনা।তাই যত দিন এ সুযোগের ভাগিদার আমি থাকবো ততদিন তোমায় দেখে নেব আমি প্রানভরে।
কত সময় গেছে জানিনা।সময় এখন যেন থমকে গেছে।অথবা আমাদের মাঝে তার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে।অনেক অনেক সময় পর তুমি মুখ তুল্লে।আমার দিকে তাকালে।আমি চমকে উঠলাম তোমায় দেখে।তোমার আলো আঁধারি মাখানো অপরিচিত ক্লান্ত নিরব চোখে জল।জানিনা কি হল।আমি এগিয়ে গেলাম তোমার কাছে।নিজের আঁচল দিয়ে মুছে দিলাম সেই জল গুলো।তুমি ডুকরে কাঁদে উঠলে।বল্লে- তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি।আমায় মাফ কোরো।
আমি বুঝলাম না।কোথাকার কষ্ট এটা,লেখার ফাঁকে ফাঁকে না অন্য কোনো জগতের।
দিন এগোতে থাকে তার স্রোতে।অপরিচিত যাই কিছু কেমন যেন ধীরে ধীরে ঘরোয়া হয়ে ওঠে।তুমিও আমার ঘরের লোক হয়ে গেলে। আমার ঘর মানে তোমারই ঘর।সেই জাঙ্গল ঘেরা জীর্ন শির্ন ঘর।যে ঘরে কিছুই নেই।না বিছানা না আশ্রয়।কিন্তু কি শান্তি খুজে পেতাম সেই ঘরে।
প্রথম যেদিন আমার ভাড়া দিলে।মানে আমার প্রেমের ভাড়া।তুমি কেঁদে উঠলে মাতৃসুলোভ ভাবে চোখ মোছানোর ভাড়া।মাঝে মাঝে অপটু হাতে তোমায় রান্না করে নিজের হাতে খাবিয়ে দেওয়ার ভাড়া।তুমি নিজের মত করে লজ্জাহীন ভাবে দিলে।আমি প্রয়োজনীয় ভাবে হাত পেতে নিলাম।এক রাশ টাকার বান্ডিল।সত্যি বলছি বিশ্বাস করো। সেই টাকা দিয়ে প্রথম যেটা কিনা ছিলাম তোমার জন্যে ধুতি আর পাঞ্জাবী।তোমাকে দারুন মানাতো তাতে।কিন্তু জানিনা কেন দিতে পারিনি।আমি রেখে যাব তা তুমি নিয়ে নেবে।তোমায় ভেবেই কত দোকান ঘুরে ঘুরে কিনেছি।জানোত মেয়েদের একি সমস্যা।।পছন্দ হতে চায়ান কিছুই।তার পর তোমায় দেব।তুমি কি যা তা নাকি আমার কাছে।তাই যা তা কিনে দেব নাকি।তোমার জন্যে সেটাই থাকবে যেটা আমার কাছে তোমাকে আমার মত তুমি বানাতে পারবে।
তোমার অনেক দোষ জানোতো। অপার্থিব জগতের চাল্লাক তুমি পার্থিব জগতে শিশু সুলোভ বোকা।বোকা ঠিক না।একদম বোকা। বোকার হর্দ।একদিন মনে আছে।এক ব্যাগ টাকা এনে কোথায় রাখবে বুঝতে পারছিলেনা।কি বিরক্তই লাগছিল তোমায়।যেন এত টাকা পাওয়াটা অপরাধের।তখন আমি প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে এখানেই থেকে যেতাম।আমার নামেও অনেক দূর্নাম রটাচ্ছিল।তা আমি গায়ে মাখতাম না।আমায় অসহায় ভাবে বললে সাহায্য করতে।আমি কি ছাই এত টাকা কোনো দিনও দেখেছি।আমিও কিছু উপায় বের করতে পারছিনা দেখে বললে- তুমি নিয়ে চলে যাও।আমার লাগবে না।
আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম তোমার দিকে।কে তুমি,কি বা তুমি,কিভাবে সৃষ্টি হল তোমার,কেই বা সৃষ্টি করলো তোমাকে,কেনই বা সৃষ্টি হল এই অস্তিত্বের।একটু ভালো কবিতা লেখাই কি তার কারন। না তার বাইরে প্রকৃতির কিছু অন্য হিসেব ছিল।হয়তো প্রকৃতি নতুন রকমের প্রেমের সৃষ্টি করতে চাইছে।যা বয়েশের নিয়ম মানেনা।মানেনা শরিরের চাওয়া পাওয়া।হয়তো সৃষ্টি করতে চায় নতুন ধরনের কিছু।হয়তো আমাদের নিয়ে তার পরিক্ষা নিরিক্ষা চলছে।আমি মাঝে মাঝে ভাবি।আসলে প্রেম কি।তুমি কত বার মা বলে ডেকেছো আমায়।তাতে আমার প্রেম কমেনি বরং অনেক অনেক গুন বেড়েছে।মা তো পৃথিবীর শ্রেষ্ট শব্দ।তুমি আমায় দিয়েছো তা।আমার পরম সন্মান।আমায় প্রতিষ্ঠিত করেছো তুমি।আমি হয়তো হারিয়ে যেতাম।কিন্তু আমায় তুমি জাগিয়ে দিয়েছো।আমার সত্যি এখন মনে হয় পৃথিবীর কেউ একজন।এত দিন মনে হত আমি একজন চলমান সমাজের চলমান জন্তু। আজ ভাবি আমি একজন, একটা সৃষ্টির ভাগিদার।এই পৃথিবি আমার ও।আমার ও সমান অধিকার আছে।কিন্তু
সমস্যাটা হল এই কিন্তু নিয়ে।আমার সামনে তোমার টেবিল।তাতে বিষের শিশির সাজিয়ে রেখেছি আমি।আমায় এবার যেতে হবে কিনা।কারন তুমি তো কষ্টের কবিতা লেখ।আমার মড়া মুখ যখন টেবিলে পড়ে থাকেব কষ্ট হবেনা তোমার বল?লিখবেনা কি তখন কয়েকটা লাইন?
Comments
Post a Comment